Thursday, October 5, 2023

জামিন কী, আগাম জামিন কখন নেওয়া যায়

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় জামিন একটি বহুল প্রচলিত পরিভাষা। সাধারণত গ্রেফতার বা আটকের পর আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়েও জামিনের আবেদন করতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে হাজির থাকার শর্তে জামিনদারের জিম্মায় এ ধরনের মুক্তি দেওয়া হয়।

 

জামিন কী 

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনগত হেফাজত থেকে মুক্তি হলো জামিন। পুলিশ বা আদালতের হেফাজত থেকে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে হাজির থাকার শর্তে জামিনদারের জিম্মায় নির্দিষ্ট পরিমাণ জামানত প্রদানের প্রতিশ্রুতি সাপেক্ষে জামিনে মুক্তি প্রদান করা হয়।

চূড়ান্ত বিচারের পূর্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অনেক ক্ষেত্রে আইনগত হেফাজতে নেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, কখনো তদন্ত প্রভাবিত যাতে করতে না পারে সেজন্য আইনগত হেফাজতে নেওয়া হয়। সেটা পুলিশ বা আদালত যেকোনো হেফাজতে হতে পারে। বিচার চলাকালেও অপরাধের ধরন অনুযায়ী আসামিকে আদালতের হেফাজত বা জেলহাজতের রাখা হয়। এ ধরনের আইনগত হেফাজত থেকে কাউকে ছেড়ে দেওয়াই জামিন। বিচার শেষে সাজা হলে আসামি কারাগারে থাকলে আপিলের পর  আদালত জামিন দিতে পারেন। জামিন বিষয়ে আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ও ৪৯৭ ধারায় আলোচনা করা হয়ছে। জামিন অযোগ্য ধারায় তদন্ত বা বিচারে বিলম্বের কারণেও আদালত জামিন দিতে পারেন। 

 

 জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬(৪) (খ) ধারায় জামিনযোগ্য অপরাধের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- এমন একটি অপরাধ যা (ফৌজদারি কার্যবিধির) দ্বিতীয় তফসিলে জামিনযোগ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে অথবা যা বর্তমানে বলবৎ কোনো আইন দ্বারা জামিনযোগ্য করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী জামিনযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন পাওয়া আইনগত অধিকার। এ ধরনের অপরাধে গ্রেফতার ব্যক্তি জামিন চাইলে এবং জামিনদার দিতে প্রস্তুত থাকলে তাকে জামিন দেওয়াটা আদালতের জন্য বাধ্যকর।

 

জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন

জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন দেওয়া আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। ৪৯৭ ধারা অনযায়ী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অপরাধে অপরাধী হওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য কারণ ব্যতীত আদালত এই বিবেচনা প্রয়োগ করতে পারেন। তবে সবধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে তিনটি কারণে জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন দেওয়ার বিষয় বিবেচনার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। কারণগুলো হলো- ১৬ বছরের কম বয়স্ক, স্ত্রীলোক ও পীড়িত বা অক্ষম ব্যক্তি।

 

তদন্তে বিলম্বের কারণে জামিন

জামিন অযোগ্য মামলায় তদন্তে ১২০ দিনের বেশি বিলম্ব হলে আদালত জামিন দিতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ (৫) ধারার বিধান মতে, অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে সংবাদ পাওয়ার তারিখ হতে অর্থাৎ মামলা দায়ের থেকে অথবা তদন্তের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হলে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা দশ বছরের বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হলে দায়রা আদালত এবং অনান্য ক্ষেত্রে অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ার সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট স্বীয় সন্তুষ্টি মোতাবেক শর্তে জামিনে মুক্তি দিতে পারেন।

বিচারে বিলম্বের কারণে জামিন

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯ গ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে বিচারকার্য সমাপ্ত করার সময় ১৮০ দিন এবং দায়রা আদালত কর্তৃক বিচারকাজ নিষ্পত্তির সময় ৩৬০ দিন। এই সময়ের মধ্যে বিচারকাজ নিষ্পত্তি না করা গেলে এই ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালত জামিন অযোগ্য মামলায় জামিন দিতে পারেন।  

হাইকোর্ট ও দায়রা আদালত কর্তৃক জামিন অযোগ্য মামলায় জামিন

জামিন অযোগ্য যেকোনো অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগ ও দায়রা আদালত জামিন দিতে পারেন। এ বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় বলা হয়েছে, ‘দণ্ডের পর আপিল থাকুক আর না থাকুক হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত যেকোনো ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করিবার আদেশ দিতে পারেন। ’ নিম্ন আদালতের জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে এই ধারায় ফৌজদারি বিবিধ (সিআর মিস) মামলা দায়ের করে জামিন চাওয়া হয়। 

আগাম জামিন কখন নেওয়া যায়

আগাম জামিনের জন্য আইনে আলাদা কোনো বিধান নেই। হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিনের দরখাস্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারাতেই করা হয়। মূলত, পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার বা বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের পূর্বেই হাইকোর্ট বিভাগ সীমিত একটি সময়ের জন্য আগাম জামিন মঞ্জুর করে থাকেন।আগাম জামিনের ক্ষেত্রে, আপাত দৃষ্টিতে জামিন পাওয়ার মতো যুক্তি সঙ্গত ভিত্তি থাকতে হবে বা জামিন দেওয়া না হলে তিনি অন্যায়ের শিকার হতে পারেন মর্মে আশঙ্কা থাকতে হবে। আগাম জামিন আদালতের বিবেচনায় বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে মঞ্জুর করা হয়। তদন্ত চলাকালে এমনকি চার্জশিট দাখিলের পরও আগাম জামিন নেওয়া যায়। তবে আগাম জামিনের পর উচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক নিম্ন আদালতে জামিননামা দাখিল করে নিয়মিত জামিন নিতে হয়। 

লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 

মানহানির মামলা কীভাবে করবেন ?

ধরুন, কোনো ব্যক্তি আপনাকে নিয়ে লোকজনের কাছে আজেবাজে মন্তব্য করছেবা কুৎসা রটাচ্ছে। এতে আপনি মানহানির শিকার হলেন। এখন ভাবছেন, আপনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু কীভাবে  আইনি প্রতিকার পাবেন, তা জানেন না।এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ্যণীয়।

মানহানির অভিযোগ এনে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা বা মোকদ্দমা করা যায়। ফৌজদারি আদালতে মানহানির মামলা করার ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের করতে হয়। সে অভিযোগ শুনে আদালত অভিযোগ থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারেন। তবে মানহানির মামলায় সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় না। সমন দেওয়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি আদালতে হাজির না হন, সে ক্ষেত্রে বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন।

দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানি কিসে হবে আর কিসে হবে না,তা বিস্তারিত বলা আছে। এ ধারা অনুসারে যে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা এমন হবে জেনেও উদ্দেশ্যমূলক শব্দাবলি বা চিহ্নাদি বা দৃশ্যমান প্রতীকের সাহায্যে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এমনভাবে কোনো নিন্দা প্রণয়ন বা প্রকাশ করে, তাহলে ওই ব্যক্তির মানহানি করেছে বলে ধরা হবে। এমনকি মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বললেও তা মানহানি হবে। মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন মানহানির অভিযোগ আনতে পারবেন। আইনে এমন কিছু ব্যতিক্রম অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির নামে মানহানিকর কিছু বললে, লিখলে বা প্রচার করলেও মানহানি হবে না। যেমন:

১. জনগণের কল্যাণে কারও প্রতি সত্য দোষারোপ করলে মানহানি হবে না।

২. সরকারি কর্মচারীর সরকারি আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করলে তা মানহানির শামিল হবে না।

৩. সরকারি বিষয়-সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে কোনো ব্যক্তির আচরণ নিয়ে মত প্রকাশ করলে মানহানি নয়।

৪. আদালতসমূহের কার্যবিবরণী প্রতিবেদন প্রকাশ করা মানহানির অন্তর্ভুক্ত হবে না।

৫. যেকোনো জনসমস্যা সম্পর্কে ও কোনো ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা মানহানির শামিল নয়।

৬. আদালতে সিদ্ধান্তকৃত মামলার দোষ, গুণ বা সাক্ষীদের সম্পর্কে বা অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ সম্পর্কে অভিমত মানহানির পর্যায়ে পড়বে না।

৭. গণ-অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানাদি সম্পর্কে কোনো মতামত দেওয়া মানহানি নয়।

৮. কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সৎ বিশ্বাসে কারো সম্পর্কে অভিযোগ করা হলে সেটিও মানহানি হবে না। যেমন: পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে সৎ বিশ্বাসে অভিযোগ।

৯. কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার বা অন্য কারো স্বার্থ রক্ষার্থে দোষারোপ করা মানহানি নয়।

১০. জনকল্যাণার্থে সতর্কতা প্রদানের উদ্দেশ্যে কারো সম্পর্কে কিছু বলা হলে মানহানি হবে না। 

দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির শাস্তি বর্ণনায় বলা হয়েছে,এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ড হতে পারে। 

অন্যদিকে দণ্ডবিধির ৫০১ ও ৫০২ ধারা অনুসারে, মানহানিকর বলে পরিচিত বিষয় মুদ্রণ বা খোদাইকরণ সম্পর্কে এবং এর শাস্তি বর্ণিত হয়েছে।

লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

 বাড়ি ভাড়া বাড়ালে আইনি পদক্ষেপ কি?

পাঠকের প্রশ্ন : আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। আমার অফিস রাজধানীর মতিঝিলে। আমার দুই ছেলে সন্তান আছে। তারা মতিঝিল আইডিয়াল কলেজে পড়াশোনা করে। এ কারণে আমি গত বছর মতিঝিলে বাসা ভাড়া নেই। বাড়িওয়ালা গত ৬ মাস আগে আমার বাসা ভাড়া বাড়িয়েছেন। এখন আবার ৬ মাস পরে আবারো বাসা ভাড়া বাড়ানোর কথা বলছে। আমি তা দিতে অসম্মতি জানালে বাড়িওয়ালা আমাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেছেন। আমার ছেলে যেহেতু লেখাপড়া করে তাই এ মুহূর্তে বাসা পরিবর্তন করা খুব কষ্টকর হয়ে যাবে। আমি এখন বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে কি ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারি ?   

আইনজীবীর উত্তর : বাড়িওয়ালা যদি ভাড়া বাড়ানোর অজুহাতে আপনাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে তাহলে আপনি বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ বা আরজি দায়ের করতে পারেন। বর্তমানে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ভাড়া নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ নিয়ন্ত্রক কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার দরখাস্তের বা আরজির শুনানি গ্রহন করতে পারবেন।

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১ অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পর বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া বাড়াতে পারবেন। তবে তা-ও হতে হবে যুক্তিসঙ্গত।

এছাড়া বাড়িওয়ালা কোনো কারণে ভাড়া গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে ভাড়াটিয়াকে চুক্তি অনুযায়ী সময়ের মধ্যে অথবা চুক্তি না থাকলে পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মানি অর্ডারযোগে বাড়িওয়ালার ঠিকানায় ভাড়া প্রেরণ করতে হবে।

মানি অর্ডারযোগে প্রেরিত ভাড়ার টাকাও যদি বাড়িওয়ালা গ্রহণ না করেন, তাহলে ওই টাকা ফেরত আসার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভাড়াটিয়াকে ভাড়া নিয়ন্ত্রক, অর্থাৎ সিনিয়র সহকারী জজের বরাবর দরখাস্ত এবং একই সঙ্গে ভাড়ার টাকাও জমা দিতে হবে।

এ জন্য একজন আইনজীবীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করতে হবে। ভাড়া নিয়ন্ত্রক প্রাথমিকভাবে শুনানির পর যদি সন্তুষ্ট হন যে ভাড়া প্রদানের জন্য অনুমতি দেওয়া যাবে, সে ক্ষেত্রে ভাড়ার টাকা আদালতে জমা দেওয়া যাবে এবং তা প্রতি মাসেই আদালতে জমা দেওয়া যাবে।

আদালতে ভাড়ার টাকা জমা দিলে আইনতভাবে ভাড়াটিয়াকে ভাড়াখেলাপি হিসেবে বলার সুযোগ থাকবে না।

বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তি করে নিন। সেই চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।

চুক্তিপত্রে ভাড়া কখন বাড়ানো যাবে এবং তা কোন হারে বাড়বে, অগ্রিম কত জমা দিতে হবে, কখন বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ছাড়তে বলতে পারেন, ভাড়াটিয়া কখন বাড়ি ছাড়বেন, তা অবশ্যই চুক্তিপত্রে উল্লেখ করতে হবে।

আর প্রতি মাসে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়ার লিখিত রসিদ সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

এডভোকেট

বাংলাদেশ, সুপ্রীমকোর্ট

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন আছে প্রয়োগ নেই

.

 

মাদক শব্দটি বর্তমানে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। ফেসবুকের নিউজফিডে, পত্র-পত্রিকায় প্রতিনিয়ত উঠে আসে মাদকের ভয়াবহ কুফলের সংবাদ। এছাড়াও মাদক সংশ্লিষ্ট নানা ঘটনার খবর প্রায়শ সরাসরি আমরা শুনতে পাই। মাদকের প্রভাব ও পরিণতি অনেক ভয়াবহ। এর কুফল ও ভয়াবহ পরিণাম থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণমূলক বিভিন্ন আইন।

 

 

তারই ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ রহিতক্রমে সর্বশেষ তৈরি হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮। এটি ২০১৮ সালের ৬৩ নং আইন। মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকল্পে বিধান প্রণয়ন এবং অপব্যবহার ও চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য এই আইন প্রণীত হয়। তবে বাস্তবে এই আইনের প্রতিফলন খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি আপামর সাধারণ জনগণও এই ধরনের অপরাধগুলোকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশে এমন অনেক আইনই আছে যেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না।

 

বলা হয়ে থাকে আইন সবার জন্য সমান। অথচ আমাদের সমাজের অনেক প্রভাবশালী নিয়মিত মাদকদ্রব্য সেবন করে চলেছে। কিন্তু তাদের ক্ষমতার কাছে হার মেনে যাচ্ছে এই আইনের উদ্দেশ্য ও প্রয়োগ। মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, মাদকদ্রব্য সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণকল্পে আমরা দেখি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় ও জনসচেতনতা সৃষ্টি না হওয়ায় এই অপরাধ প্রবণতা আরও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকে নকল মেডিক্যাল ব্যবস্থাপত্র নিয়ে মাদক ক্রয় ও সেবন করে থাকে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ১১ ধরার উপধারা (২) অনুসারে, অনুমোদনপ্রাপ্ত বিশেষ শ্রেণির ব্যক্তিদের বিশেষ মাদকদ্রব্য সমূহ গ্রহণের সুযোগকে অনেকে পুঁজি করে নিজেদের অনৈতিক উদ্দেশ্যকে হাসিল করছে।

 

 

২০১৮ সালের এই মাদক আইন ভঙ্গ করার কারণে শাস্তির বিধান সর্বনিম্ন শাস্তি ৩ মাসের কারাদন্ড এবং সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করা হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা মৃত্যুদন্ড এবং অর্থদন্ড। এখানেও আইনের প্রয়োগহীনতা দেখতে পাওয়া যায়। নিজ ক্ষমতাবলে অনেকেই পার পেয়ে যায় এবং এই অপরাধ পুনরায় সংগঠিত করার মতো জঘন্য অপরাধ করে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে প্রতিনিয়ত মাদকের উৎপাদন ও মাদকসেবীর সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

 

আবার ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে পারবেন না। যদি কেউ করেন তাহলে দন্ড হিসেবে অনধিক ৩০০ (তিনশত) টাকা অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যে, ঐ ব্যক্তি যদি দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুন একই অপরাধ করেন তাহলে তিনি পর্যায়ক্রমে উক্ত দন্ডের দ্বিগুণ হারে দন্ডনীয় হবেন। কিন্তু এই আইনেরও সঠিক প্রয়োগ আমরা দেখতে পাই না। বাস্তবে প্রায় সবখানেই অনেককে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখা যায়, যেন এটি এখনও একটি স্বাভাবিক বিষয়।

 

তরুণ প্রজন্মকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলা হলেও বর্তমানে তরুণ সমাজ ও যুবসমাজ প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে মাদকাসক্ত হয়ে এবং মাদক অপরাধে যুক্ত হয়ে। যা আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ। বর্তমানে আমাদের দেশের একটি প্রধান সমস্যা ‘বেকারত্ব’। যার ফলস্বরূপ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে মাদকসেবী হয়ে পড়ছে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী। অবশ্য মেয়েদের মাদকাসক্তির সংখ্যা সীমিত।

 

প্রকৃতপক্ষে মাদকের সহজলভ্যতা, আইন প্রয়োগে শিথিলতা, নতুনত্বের প্রতি আকাক্সক্ষা প্রভৃতি মাদকাসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। তাই এখনই যদি মাদক সেবনের এই ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টি না করা যায় বিশেষ করে যুবসমাজে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মাদক সেবনের শাস্তি ও সর্বত্র এই সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ যদি সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়, তাহলে জনসচেতনতা বেশি বৃদ্ধি পাবে, মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে মুক্তি পাবে লাখো মাদকসেবী।

 

লেখক : সমাজকর্মী

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কী আছে?

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের প্রথম পর্বে পুত্রের কন্যা (নাতনি) পর্যন্ত উত্তরাধিকার আইন সম্বন্ধে এনটিভি অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় পর্বে বাকি অংশীদারদের উত্তরাধিকার নীতি সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো।

মা কত ভাগ পাবে

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে মা তিন অবস্থায় সম্পত্তি পেতে পারেন। প্রথমত, সন্তান বা পুত্রের সন্তানের উপস্থিতিতে অথবা মৃত সন্তানের আপন, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় দুই বা ততোধিক ভাই-বোনের উপস্থিতিতে মা ১/৬ অংশ সম্পত্তি পান।

কিন্তু কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তানের অনুপস্থিতিতে এবং মৃত সন্তানের ভাইবোনের সংখ্যা একজনের বেশি না হলে মা ১/৩ অংশ পাবেন। আবার এই অবস্থায় যদি মৃত সন্তানের স্বামী বা স্ত্রী ওয়ারিশ হয় মা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ১/৩ অংশ পাবেন।

আপন বোন

আপন বোন একজন থাকলে এককভাবে ১/২ অংশ এবং একাধিক আপন বোন থাকলে একত্রে ২/৩ অংশ পান। কিন্তু আপন ভাইয়ের অস্তিত্ব থাকলে ভাইয়ের সঙ্গে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ হারে সম্পত্তি পান।

কিন্তু মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের নিম্নগামী সন্তান, পিতা বা পিতার ঊর্ধ্বগামীর উপস্থিতিতে আপন বোন উত্তরাধিকার হতে বাদ পড়ে। এমনকি মৃত ব্যক্তির এক বা একাধিক কন্যা বা পুত্রের কন্যার উপস্থিতিতে ও আপন বোন উত্তরাধিকার হতে বাদ পড়ে।

বৈমাত্রেয় বোন

আপন বোনের মতই একজন বৈমাত্রেয় বোন ১/২ অংশ, একাধিক বৈমাত্রেয় বোন একত্রে ২/৩ অংশ সমানভাগে পায়। কিন্তু একজন মাত্র আপন বোন থাকলে বৈমাত্রেয় বোন যতজনই থাকুক শুধু ১/৬ অংশ পাবেন। আবার বৈমাত্রেয় ভাই থাকলে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে ২:১ হারে সম্পত্তি পাবে।

কিন্তু মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান, পিতা বা তার ঊর্ধ্বগামী, একাধিক আপন বোন কিংবা ভাইয়ের উপস্থিতিতে বৈমাত্রেয় বোন বাদ পড়বে।

বৈপিত্রেয় ভাই ও বোন

মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান কিংবা পিতা বা পিতামহের উপস্থিতিতে বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন উত্তরাধিকার হতে বাদ পড়ে। এ ছাড়া একজন বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন ১/৬ অংশ এবং একাধিক ভাই বোন একত্রে ১/৩ অংশ সমানভাবে পাবে।

অবশিষ্টাংশভোগীদের উত্তরাধিকার

এরা দ্বিতীয় শ্রেণির ওয়ারিশ। শুধু অংশীদারের অনুপস্থিতিতে বা অংশীদারদের মধ্যে বণ্টনের পর কিছু অবশিষ্ট থাকলেই এই শ্রেণির ওয়ারিশরা সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। অবশিষ্টাংশভোগীদের সবাই মৃত ব্যক্তির পিতৃবংশের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে পুরুষ সদস্যরা নিজ অধিকারসূত্রে এই শ্রেণির অন্তর্গত। যেমন, পুত্র বা পুত্রের পুত্র বা আপন ভাই এবং বৈমাত্রেয় বোন।

আবার, পুরুষ আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে চারজন নারী, পুরুষের অর্ধেক হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে থাকেন। যেমন, কন্যা পুত্রের সঙ্গে, আপন বোন আপন ভাইয়ের সঙ্গে বা বৈমাত্রেয় বোন, বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সঙ্গে অর্ধেক হিসেবে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে সম্পত্তি লাভ করেন যদিও পুরুষ সদস্যের অনুপস্থিতিতে এরা সবাই অংশীদার হিসেবে সম্পত্তি লাভ করে।

দূরবর্তী আত্মীয়রা

উপরের দুই শ্রেণির অনুপস্থিতিতে দূরবর্তী আত্মীয়রা সম্পত্তি লাভ করেন। এর মধ্যে এক নম্বর উপশ্রেণির সদস্য হল মৃত ব্যক্তির কন্যার বংশধর, পুত্রের কন্যার বংশধর। দ্বিতীয় উপশ্রেণির সদস্য হল মৃত ব্যক্তির পূর্বপুরুষ যেমন- অপ্রকৃত দাদা, নানা, দাদি বা নানি বা তাঁর ঊর্ধ্বগামীরা। তৃতীয় উপশ্রেণির সদস্য হলো মৃত ব্যক্তির পিতামাতার বংশধর যেমন- সহোদর, বৈপিত্রেয় ভাইয়ের কন্যা বা তাদের সন্তানরা। সর্বশেষ শ্রেণির সদস্য হল মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী পিতামহ ও মাতামহের বংশধর যেমন- আপন চাচার কন্যা বা তাদের বংশধর, পিতার বৈমাত্রেয় ভাইয়ের কন্যা বা তাদের বংশধর।

লেখক : মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক।

ভূমি বিষয়ক নিম্নের তথ্যাবলী প্রত্যেকেরই জানা উচিত! “পর্চা”, “দাগ”, “খতিয়ান”, “মৌজা”, “জমা খারিজ”, “নামজারি”, “তফসিলইত্যাদি বিষয়ের ডেফিনেশন এবং জেনে নিন ভূমি বিষয়ক জরুরী সব তথ্য

!“নামজারীবা মিউটেশন কাকে বলে?

ক্রয়সূত্রে/উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যেকোন সূত্রে জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলা হয়

!“জমা খারিজকাকে বলে?

যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে অন্য কথায় মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে

!“খতিয়ানকাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকেখতিয়ানবলে

খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক আমাদের দেশে CS, RS, SA এবং সিটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে এসব জরিপকালে ভূমি মালিকের তথ্য প্রস্তত করা হয়েছে তাকেখতিয়ানবলে যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান

ভূমি জরিপ: CS, RS, PS, BS কি?

!ভূমি বা Land কাকে বলে?

ভূমি কাকে বলে?”- এর আইনী সংজ্ঞা রয়েছে The State Acquisition and Tenancy Act, 1950- এর (১৬)- ধারা মতে, “ভূমি (land) বলতে আবাদি, অনাবাদি অথবা বছরের যেকোন সময় পানিতে ভরা থাকে এবং ভূমি হতে প্রাপ্ত সুফল, ঘরবাড়ি বা দালান কোঠা বা মাটির সঙ্গে সংযুক্ত অন্যান্য দ্রব্য অথবা স্হায়ীভাবে সংযুক্ত দ্রব্য এর অন্তর্ভুক্ত বুঝাবে

! ভূমি জরিপ/রেকর্ড কাকে বলে? ভূমি জরিপ হচ্ছে ভূমির মালিকানা সম্বলিত ইতিহাসের সরেজমিন ইতিবৃত্ত

আইনী সংজ্ঞা হচ্ছে, The Survey Act, 1875 এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের জরিপ বিভাগ সরেজমিন জরিপ করে ভূমির মালিকানার যে বিবরণ

এবং নকশা তৈরী করে তাই রেকর্ড বা জরিপ অর্থাৎ রেকর্ড বা জরিপ হচ্ছে মালিকানার বিরবণ এবং নকশার সমন্বয় একটি ভূমির মালিক কে এবং তার সীমানা কতটুকু এটা ভূমি জরিপের মাধ্যমে নকশা/ম্যাপ নির্ণয় করা হয় এই নকশা এবং ম্যাপ অনুসারে মালিকানা সম্পর্কিত তখ্য যেমন ভূমিটি কোন মৌজায় অবস্থিত, এর খতিয়ান নাম্বার, ভূমির দাগ নাম্বার, মালিক দখলদারের বিবরণ ইত্যাদি প্রকাশিত হয় যাকে খতিয়ান বলে রেকর্ড বা জরিপ

প্রচলিতভাবে খতিয়ান বা স্বত্ত্বলিপি বা Record of Rights (RoR) নামেও পরিচিত রেকর্ড বা জরিপের ভিত্তিতে ভূমি মালিকানা সম্বলিত বিবরণ খতিয়ান হিসেবে পরিচিত যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান, ইত্যাদি আমাদের দেশে পরিচালিত ভূমি জরিপ বা রেকর্ড গুলো হচ্ছে;

1. CS -Cadastral Survey

2. SA- State Acquisition Survey (1956)

3. RS -Revitionel Survey

4. PS – Pakistan Survey

5. BS- Bangladesh Survey (1990)

) সি.এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)

সিএসহলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৯ সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয় এই জরিপে বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের দশম অধ্যায়ের বিধান মতে দেশের সমস্ত জমির বিস্তারিত নকশা প্রস্তুত করার এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করার বিধান করা হয় প্রথম জরিপ হলেও এই জরিপ প্রায় নির্ভূল হিসেবে গ্রহণযোগ্য মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়

) এস.. জরিপ (State Acquisition Survey)

১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় এরং রায়েতের সাথে সরকারের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে জমিদারদের প্রদেয় ক্ষতিপুরণ নির্ধারন এবং রায়তের খাজনা নির্ধারনের জন্য এই জরিপ ছিল

জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল

) আর.এস. জরিপ ( Revisional Survey)

সি. এস. জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ ৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয় জমি, মলিক এবং দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার নিমিত্তে জরিপ সম্পন্ন করা হয় পূর্বেও ভুল ত্রুটি সংশোধনক্রমে . এস জরিপ এতই শুদ্ধ হয় যে এখনো জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আর, এস জরিপের উপর নির্ভর করা হয় এর খতিয়ান ম্যাপের উপর মানুষ এখনো অবিচল আস্থা পোষন করে

) সিটি জরিপ (City Survey)

সিটি জরিপ এর আর এক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ আর.এস. জরিপ এর পর বাংলাদেশ সরকার কর্তিক অনুমতি ক্রমে জরিপ ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হয় যবত কালে সর্বশেষ আধুনিক জরিপ এটি জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট পকাশিত হয়

!“পর্চাকাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের প্রদান করা করা তাকেমাঠ পর্চাবলে এই মাঠ পর্চা রেভিনিউ/রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিব বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শোনানির পর খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয় আর চুড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকেপর্চাবলে

!“মৌজাকাকে বলে?

যখন CS জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা অালাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্তি করা হয়েছে আর বিভক্তকৃত এই প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে

!“তফসিলকাকে বলে?

জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরণকেতফসিলবলে তফসিলে, মৌজার নাম, নাম্বার, খতিয়ার নাম্বার, দাগ নাম্বার, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশ থাকে

!“দাগনাম্বার কাকে বলে? যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদ নাম্বার দেয়া হয় আর এই নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে মূলত, দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রর্দশন করা হয়

১০!“ছুটা দাগকাকে বলে?

ভূমি জরিপকালে প্রাথমিক অবস্থায় নকশা প্রস্তুত অথবা সংশোধনের সময় নকশার প্রতিটি ভূমি এককে যে নাম্বার দেওয়া হয় সে সময় যদি কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে তাকে ছুটা দাগ বলে আবার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দুটি দাগ একত্রিত করে নকশা পুন: সংশোধন করা হয় তখন যে দাগ নাম্বার বাদ যায় তাকেও ছুটা দাগ বলে

১১!“খানাপুরিকাকে বলে? জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে

১২!“আমিনকাকে বলে?

ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা খতিয়ান প্রস্তত ভূমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে

১৩!“কিস্তোয়ারকাকে বলে?

ভূমি জরিপ কালে চতুর্ভুজ মোরব্বা প্রস্তত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভুমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে

১৪!“খাজনাককে বলে?

সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে

১৫!“দাখিলাকাকে বলে?

ভূমি কর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফর্মে ( ফর্ম নং১০৭৭) ভূমি কর/খাজনা আদায়ের প্রমান পত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়

১৬!"DCR কাকে বলে?

ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে

১৭!“কবুলিয়তকাকে বলে?

সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে

১৮!“নাল জমিকাকে বলে?

/ ফসলি সমতল ভূমিকে নাল জমি বলা হয়

১৯!“খাস জমিকাকে বলে?

সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর বা ডিসি তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে

২০!“চান্দিনা ভিটিকাকে বলে?

হাট বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী অকৃষি জমির যে অংশ প্রজার প্রতি বরাদ্ধদ দেওয়া হয় তাকে চান্দিনা ভিটি বলে

২১!“ওয়াকফকাকে বলে?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোন ভূমি তার মালিক কর্তৃক ধর্মীয় সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন দান করাকে ওয়াকফ বলে

২২!“মোতওয়াল্লীকাকে বলে?

যিনি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধান করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত মোতওয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না

২৩!“দেবোত্তরসম্পত্তি কাকে বলে?

হিন্দুধর্ম মতে, ধর্মীয় কাজের জন্য উৎসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলে

২৪!“ফরায়েজকাকে বলে?

ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম প্রক্রিয়াকে ফরায়েজ বলে

২৫!“ওয়ারিশকাকে বলে?

ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী ধর্মীয় বিধানের অনুয়ায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলে তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ওয়ারিশ বলে

২৬! “সিকস্তিকাকে বলে?

নদী ভাঙ্গনের ফলে যে জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় তাকে সিকস্তি বলে সিকস্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়ন্তি হয় তাহলে সিকস্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন

২৭!“পয়ন্তিকাকে বলে?

নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে

২৮!“দলিলকাকে বলে?

যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয় তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবে তাকে দলিল বলে

ভূমির পরিমাপঃ

ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতকঃ

***************************

শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

শতাংশ =১০০০ বর্গ লিঙ্ক

শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ

শতাংশ = কাঠা = ২১৭৮ বর্গফুট

১০ শতাংশ = কাঠা = ৪৩৫৬ বর্গফুট

১০০ শতাংশ = একর =৪৩৫৬০বর্গফুট

কাঠা পরিমাপঃ

****************

কাঠা = ৭২০ বর্গফুট/৭২১.৪৬ বর্গফুট

কাঠা = ৮০ বর্গগজ/৮০.১৬ বর্গগজ

কাঠা = .৬৫ শতাংশ

২০ কাঠা = বিঘা

৬০. কাঠা = একর

একরের পরিমাপঃ

******************

একর = ১০০ শতক

একর = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট

একর = ,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক

একর = ,৮৪০ বর্গগজ

একর = ৬০. কাঠা

একর = বিঘা ছটাক

একর = ১০ বর্গ চেইন = ,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক

একর = ,০৪৭ বর্গমিটার

শতক = . গন্ডা বা ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

বিঘা পরিমাপঃ

*************

বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট /১৪৫২০বর্গফুট

বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক

বিঘা = ৩৩ শতাংশ

বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ/১৬১৩ বর্গগজ

বিঘা = ২০ কাঠা

বিঘা ছটাক = .০০ একর

লিঙ্ক পরিমাপঃ

****************

১লিঙ্ক = . ইঞ্চি /.৯২ ইঞ্চি

১লিঙ্ক =.৬৬ ফুট

১০০ লিঙ্ক = ৬৬ ফুট

১০০ লিঙ্ক = গান্টার শিকল

১০০০ বর্গ লিঙ্ক = শতক

,০০,০০০ বর্গ লিঙ্ক = একর

কানি একর শতকে ভূমির পরিমাপঃ

*******************************

কানি = ২০ গন্ডা

গন্ডা = শতক

শতক = কড়া

কড়া = কন্ট কন্ট = ২০ তিল

ফুট এর হিসাবঃ

*****************

কানি = ১৭২৮০ বগফুট

গন্ডা = ৮৬৪ বফু

শতক= ৪৩৫.৬০ বফু

কড়া = ২১৭. বফু

কন্ট = ৭২ বফু

তিল= . বফু

বর্গগজ/বর্গফুট অনুযায়ী শতাংশ একরের পরিমাণঃ

*********************************

৪৮৪০ বর্গগজ = একর

৪৩৫৬০ বর্গফুট= একর

১৬১৩ বর্গগজ= বিঘা

১৪৫২০বর্গফুট = বিঘা

৪৮.৪০ বর্গগজ = ০১ শতাংশ

৪৩৫.৬০ বর্গফুট= ০১ শতাংশ

৮০.১৬ বর্গগজ= কাঠা

৭২১.৪৬ বর্গফুট = কাঠা

.০১ বর্গগজ = ছটাক

২০ বর্গহাত = ছটাকা

১৮ ইঞ্চি ফুট= হাত (প্রামাণ সাই)

শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন

 


Subject: Examination of Registration Card.

Dear sir,
We have lately issued registration 21011820143 cards for the hsc 1st and 2nd year examinees of 2011-2012. We have send the same electronically to the colleges with a request to come back to us for any mistake, omissions, or corrections within two weeks. We have got confirmation of receipt of registration cards for your College. But we are yet to receive the same for five exminees of your college including yourself.
Please, check if you have received your registration card and if it is correct and inform us as soon as possible.
Looking forward to your quick response
Sincerely,
Advocate Abdur Rahim Chowdhury LLB, LLM 2016-17 Batch
Like
Comment
Share

No comments:

Post a Comment

LAW

  মামলা মোকাদ্দমা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য প্রশ্ন১। সি. আর কেস অর্থ কি? এবং তা কিভাবে করে? এবং এর থেকে প্রতিকার কি? উত্তরঃ সি. আর= কোর্ট  কর্তৃ...